স্টার্টআপ : শুরুর আগে শুরু

এখন অনেকেই উদ্যোক্তা হতে চান। বিজনেস কার্ডে নিজের নামের নিচে ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা সিইও লেখা যায়! কিন্তু ব্যাপারটা কি আসলে এতটাই সোজা? অনেক উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত স্থায়ী হয়নি। ব্যবসা শুরুর আগে কিছু সঠিক কাজ করলে হয়তো এই অকালমৃত্যু ঠেকানো যেতে পারে।

১. কী করবেন
ব্যবসার ধারণাটি কী আপনার? যেকোনোভাবে একটা নতুন আইডিয়া আপনার মনে আসতে পারে। হতে পারে সেটা কাউকে দেখে, কারও কাছ থেকে শুনে অথবা কোথাও পড়ে। অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জানতে পারেন বা নিজে উপলব্ধিও করতে পারেন। তবে আইডিয়া পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়বেন না। প্রথমে এর বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে, পড়াশোনা করে, আলাপ-আলোচনা করে সেটি যাচাই করে নিন। অনেকেই চুরির আশঙ্কায় আইডিয়া নিয়ে আলাপ করতে চান না। কিন্তু একটা পূর্ণাঙ্গ ব্যবসায় আইডিয়ার অবদান মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। বাকিটুকু বাস্তবায়ন। এ ছাড়া পৃথিবীর সবাই আলাদা। কেউ আপনার আইডিয়া শুনলেও সেটা আপনার মতো করে বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। মায়ের কাছে সন্তানের মতো উদ্যোক্তার কাছে আইডিয়া। অন্যের সঙ্গে শেয়ার করলে বরং এর দুর্বলতাগুলো ধরা পড়বে। সে ক্ষেত্রে বিরাট ক্ষতি থেকে বাঁচবেন। 

২. কেন করবেন
কিছু সম্ভাব্য ক্রেতা বা গ্রাহকের সঙ্গে বাতচিত করা উচিত। ক্রেতা বা গ্রাহক পণ্য বা সেবা কেনেন না। কেনেন তার উপযোগিতা। যেমন সিনেমা হলে ইদানীং দর্শক কমে যাচ্ছে। সিনেমা হলগুলো আরামপ্রদ করে, গেটআপ বদলিয়ে বা ভালো সিনেমা এনে কি দর্শকে ভরপুর করে ৩০ বছর আগের মতো রমরমা ব্যবসা করা যাবে? সম্ভবত না। কারণ, দর্শক সিনেমা হলে যেতেন বিনোদনের জন্য। সেই বিনোদন এখন পাচ্ছেন টিভি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব থেকে। আপনার পণ্য গ্রাহকের কোন চাহিদাটা মেটাচ্ছে, ভেবে দেখুন। যদি প্রতিযোগী থাকেন, তাহলে বাড়তি কী দিচ্ছেন, সেটাও ভাবুন। বাজারে পণ্যের চাহিদা এবং সরবরাহ কেমন, জেনে নিন। দরকার হলে কোনো পেশাদার প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিন। 

 ৩. কাদের জন্য
আপনার গ্রাহক কারা, চিনুন। তাঁদের আপনার লক্ষ্য অনুসারে ভাগ করুন। অনেকে বলেন, বাংলাদেশে ১৬ কোটি লোক আছে, তার ১ শতাংশ পেলেই আমার অনেক। ১৬ কোটি লোককে গ্রাহক ভাবার মানে হলো আপনি আপনার গ্রাহককে চেনেননি, পর্যাপ্ত গবেষণা করেননি। গ্রাহককে চিনুন। তাঁরা কোথায় থাকেন, কী করেন, কী চান, কী পছন্দ করেন না—সবকিছু জানুন। 

৪. কীভাবে করবেন
আপনাকে অন্যের থেকে আলাদা হতে হবে। যেটাকে বলে ইউনিক সেলিং প্রপজিশন বা ইউএসপি। পণ্যটি যদি নতুন হয়, তাহলে সেটিই হতে পারে ইউএসপি। অথবা আপনি কস্ট লিডার হতে পারেন। একই পণ্য অন্যরাও দিচ্ছেন, কিন্তু আপনার কাছে অনেক সস্তায় পাওয়া যায়। তবে দেখে নিন আপনার গ্রাহকেরা মূল্য সংবেদনশীল কি না। null

৫. আপনি কেন?
ওপরের সব উপাদান যদি পজিটিভ হয়, তবু এ ব্যবসায় আপনি কেন? আপনার কী গুণ আছে? এ ব্যবসা আপনি কেন করতে পারবেন? আপনার শক্তির জায়গাগুলো কী কী? এই ব্যবসা করার জন্য যে যে গুণ দরকার, তা আপনার বা আপনার অংশীদারের আছে কি? যদি কোনো গুণে ঘাটতি থাকে, তা কীভাবে মেটাবেন? 

৬. সহায়ক শক্তি
ব্যবসা করার জন্য অনেক উপাদান প্রয়োজন হয়, যেমন: কাঁচামাল, জনবল, ভৌত উপাদান, যানবাহনব্যবস্থা ইত্যাদি। আপনার সবকিছু ঠিক থাকলেও সহায়ক শক্তিগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে ও সময়মতো না থাকলে কিন্তু আপনার উদ্যোগ ভেস্তে যাবে। 

এসব ভেবেই আপনার উদ্যোগে নামবেন কিন্তু! 

লিখেছেনশওকত হোসেন: ভেঞ্চার বিনিয়োগ বিষয়ক পরামর্শক

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *