“আমি কিছু একটা করবো”

বন্দরনগরী চট্রগ্রামে প্রথম বারের মতো ২০০ জন সৃষ্টিশীল চিন্তা ধারার তরুণ-তরুণী ও উদ্যোক্তাদের সাথে নিয়ে  স্টার্টআপ চট্টগ্রাম সফলভাবে আয়োজন করলো “স্টার্টআপ চট্টগ্রাম বুট ক্যাম্প ২০২০”। দুই দিনব্যাপী এ বুটক্যাম্প কর্মশালায় হাতে-কলমে শেখানো হয়েছে কিভাবে একটা আইডিয়া থেকে বিশ্ব পরিবর্তন ও বিলিয়ন ডলারের স্টার্টআপ এ রূপ দেওয়া যায়। অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন আইসিটি ডিভিশন এর সিনিয়র সচিব জিয়াউল আলম পিএ।

স্টাটার্প চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা আরাফাতুল ইসলাম আকিব এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোঃ ইলিয়াস হোসেন, আইডিয়া প্রজেক্ট প্রজেক্ট এর পিডি  সৈয়দ মুজিবুল হক। স্টার্টআপ বাংলাদেশের রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন স্পেশালিস্ট আরএইচএম আলাওল কবির, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রিজোয়ান খান।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এন এম জিয়াউল আলম বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ চাকরির চেয়ে ব্যবসা করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে তার ফলস্বরূপ তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন স্টার্টআপ। স্টাটার্প বুটিক্যাম্প ২০২০ অনেক বড় একটা প্রাপ্তি চট্টগ্রামের জন্য। স্টাটার্প চট্রগ্রাম থেকে তৈরি হওয়া স্টাটার্পগুলো হাইটেক পার্কে কাজের সুযোগ পাবে।  তিনি আরো বলেছেন, সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে আমাদের আইডিয়াগুলো কাজে লাগিয়ে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। শুধু চাকরি করার চিন্তা না করে চাকরি সীমিত হওয়ায় চাকরি করার চেয়ে চাকরি দেওয়ার  চিন্তা করতে হবে।

সৈয়দ মুজিবুল হক বলেন, স্টার্টআপ উদ্ভাবন হয়েছে সিলিকন ভ্যালি থেকে। গবেষণাকে প্রোডাক্ট এর রূপ দিয়ে সমস্যাকে সমাধান করে তৈরি করতে হবে নতুন নতুন উদ্যোক্তা। পৃথিবীর বড় দশ জন ধনী স্টাটার্প আইডিয়া থেকে এসেছেন। ইলিয়াস হোসেন বলেন পরিশ্রম ও ধৈর্য ধরে কাজ করলে আমাদের দেশেও আমাজন আলিবাবার মতো মিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি তৈরি হবে অতি শীঘ্রই যা একটা সুন্দর পৃথিবী পরিবর্তন করতে পারে । বুট ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে রিজওয়ান খান বলেন আপনাদের মধ্যে ভালো কোন আইডিয়া থাকলে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ইউনাইটেড গ্রুপ সবসময় সাপোর্ট দেবে।

প্রথম দিনের কর্মশালায় তিনটি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। এবং প্রথম দিনের বুট ক্যাম্প এর কার্যক্রম সমাপ্ত হয় প্যানেল ডিসকাশন চট্টগ্রাম ভিশন ২০৩০। এতে উপস্থিত ছিলেন এসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ইয়াসিন আহমেদ, চট্টগ্রাম উইমেন চেম্বারের ডিরেক্টর শাইলা আবেদিন এবং মোস্তারি মোর্শেদ স্মৃতি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের ইলেকট্রিক্যাল ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান টোটন চন্দ্র মল্লিক এবং কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর আহমেদ শাওন। সমাপনী বক্তব্য রাখেন স্টার্টআপ চট্টগ্রামের চিফ অ্যাডভাইজার আরেফিন রাফি আহমেদ।

দ্বিতীয় দিন শুরু হয় “ফিনান্সিয়াল মডেলিং এবং হাউ টু টক উইথ ইনভেস্টর”। ওয়ার্কশপ গুলো পরিচালনা করেন লাইট ক্যাসেলের সিইও বিজন ইসলাম এবং সিনিয়র বিজনেস কনসালটেন্ট মেহাদ উল হক। টানা দুইদিনের ওয়ার্কশপের মাধ্যমে ২০০ জন সৃষ্টিশীল চিন্তা ধারার তরুণদের মধ্য থেকে ৫০ টি  আইডিয়াকে উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়া হয়। সেখান থেকে সেরা চৌদ্দটা আইডিয়াকে সিলেক্ট করা হয়েছে স্টার্টআপ বাংলাদেশের কাছে উপস্থাপন করার জন্য। আইডিয়া উত্থাপন পর্বে বিচারক সভায় ছিলেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ভিসি প্রফেসর চৌধুরী মফিজুর রহমান, লাইট ক্যাসেলের সিইও বিজন ইসলাম, এশিয়া প্যাসিফিক জিন্স এর ডিরেক্টর সৈয়দ তানভীর, টেকনো ড্রাগ লি. ডিরেক্টর আরেফিন রাফি আহমেদ, এসকেমি সাউথ এশিয়ার এমডি লুৎফি চৌধুরী , লাইফ কোচ বাংলাদেশের সিইও মোহাম্মদ তানভীর আবেদীন।

সমাপনী বক্তব্যে স্টার্টআপ চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা আরাফাতুল ইসলাম আকিব জানান নতুন উদ্যোক্তা তৈরীর লক্ষ্যে আমরা চট্টগ্রামে কাজ করতে চাই। স্টার্টআপ চট্টগ্রাম বুট ক্যাম্প ২০২০  প্রথমবারের উদ্ভাবনী, উদ্যোক্তা এবং দক্ষতা সংহত করার জন্য ডিজাইন করা একটি ইভেন্ট। স্টার্টআপ চট্টগ্রাম বুটক্যাম্প প্রাথমিক পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের জন্য নেটওয়ার্কিং এর মাধ্যমে নতুন পথ তৈরির এক অনন্য সুযোগ। বিচারক সভায় উপস্থিত বক্তারা আরও বলেন, “স্টার্টআপ চট্টগ্রাম” চট্টগ্রামের জন্য একটা মাইলফলক স্টার্টআপ।চট্টগ্রামের মাধ্যমে উঠে আসবে নতুন নতুন সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তা। নতুন নতুন স্টার্টআপ আগামীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখবে।

এই দুদিনের বুটক্যাম্প পার্টনার হিসেবে ছিল ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইউনাইটেড গ্রুপ,  ইভ্যালি, আইসিটি ডিভিশন, স্টার্টআপ বাংলাদেশ, লাইট ক্যাসল পার্টনার্স, টেকনো ড্রাগস লিমিটেড, হোটেল আগ্রাবাদ, লাইফ কোচ বাংলাদেশ, দ্য ডেইলি স্টার, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস, এসএমই ভাই, রেড ক্যানভাস, স্পিকার্স কাউন্সিল, জিওন বিডি, পিউরিয়া ফুড, জুয়ারিয়া অটোমোবাইলস ।

ডেস্ক রিপোর্ট, উদ্যোক্তা বার্তা

1 thought on ““আমি কিছু একটা করবো””

  1. শিক্ষানগরী ময়মনসিংহে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ হতে পাশকরা ১০০ জন প্রশিক্ষিত, সৃষ্টিশীল চিন্তা ধারার তরুণ গবেষক, উদ্যোক্তা সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে ময়মনসিংহ ফাউন্ডেশ লিমিটেড কোম্পানী। তাদের অর্জিত জ্ঞান, নিজস্ব পুজি বিনিয়োগ ও গবেষনা কাজে লাগিয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলে কর্মসংস্থানমুখী, কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির পাশাপাশি সফলভাবে উৎপাদনমুখী ব্যবসা-বানিজ্য সম্প্রসারিত করতে যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *